বাদশাহ নামদার-হুমায়ূন আহমেদ pdf download - Studenttimesbd

বাদশাহ নামদার-হুমায়ূন আহমেদ pdf download

বই : বাদশাহ নামদার
লেখক : হুমায়ূন আহমেদ
শিরোনাম : মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাসের ভিত্তিতে রচিত এক অসাধারণ ঐতিহাসিক উপন্যাস হলো ‘বাদশাহ নামদার’। এখানে মূলত সম্রাট হুমায়ূনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ভাইদের বিশ্বাসঘাতকতা, যুদ্ধ,  সিংহাসন ফিরে পাওয়া নানা সংমিশ্রণের চিত্র ফুটে ওঠে।

লেখক বাদশাহ নামদার উপন্যাসের শুরুতে বলেন হুমায়ূন এমন এক চরিত্র  যেখানে অতিমাত্রায় কোন রং চড়ানোর প্রয়োজন নেই, কারণ তার জীবন ও প্রাত্যহিক কর্মকান্ড এতটাই নাটকীয় যে অবলীলায় সেটি যে কোন গল্পের চেয়েও চমকপ্রদ। 

সম্রাট বাবরের প্রিয় পুত্র ছিলেন হুমায়ূন।  হুমায়ূন একা থাকতে বেশি পছন্দ করতেন। সে পদ্য রচনা করতেন, ছবি আঁকতেন, জোতির্বিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতেন। একাকীত্বের মাঝেই ডুবে থাকতেন তার জগতে। কিন্তু একাকীত্ব রাজপুরুষদের মানায়না। তিনি সাম্রাজ্য নিয়েও ছিলেন উদাসীন।

ইব্রাহিম লোদির কোষাগার ও রাজধানী দখল করতে সম্রাট বাবর তাকে পাঠালেন সে জয়ী হন এবং ‘কোহিনুর’ নামক একটি হীরা নিয়ে ফিরেন যা তার পিতাকে উপহার দেন।পিতা খুশি হয়ে সেই কোহিনুর আবার তাকেই দিয়ে দেন।

বাদশাহ নামদার – হুমায়ূন আহমেদ pdf download

একবার হুমায়ূন মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হন। সম্রাট বাবর পুত্রের কালান্তর রোগ নিজের শরীরে ধারন করে মৃত্যু বরন করেন৷ তার তিনদিন পর হুমায়ূন সুস্থ হয়ে সিংহাসনে বসেন।

সাধারণত অন্যরা সিংহাসনে বসেই তার উপর ভ্রাতাদের হত্যা করে ফেলে যাতে তারা কেউ আর সিংহাসন দখল করতে না পারেন কিন্তু হুমায়ূন তা করেন নি। তার চরিত্রে অন্য শাসকদের মত লোভ,হিংস্রতা কিছুই ছিলনা বরং ছিল শুধু দয়া,করুণা,মহানুভবতা।  যা পরবর্তীতে তাকে অনেক বিপদে ফেলেন।

শের শাহ ছিলেন হুমায়ূনের প্রধান শত্রু। শের শাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে হুমায়ূন তার মিষ্টি কথায় গলে যান এবং মারাত্মকভাবে বিপদগ্রস্ত হন। শের শাহ তার সাথে যুদ্ধ করলেও মানুষ হিসেবে তিনি হুমায়ূনকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন যার কারনে নির্দেশ দিয়ে দেন হুমায়ূনকে যেন যুদ্ধে হত্যা করা না হয় তাকে যেন পালানোর সুযোগ দেওয়া হয়।

বাদশাহ নামদার-হুমায়ূন আহমেদ pdf

হুমায়ূন শের শাহের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তার ভ্রাতাদের সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখেন। কিন্তু তার ভ্রাতা কামরান মির্জা বিশ্বাসঘাতকতা করেন। আর আগেও বহুবার তার অপরাধের জন্য ক্ষমা করা হয়েছিল।

হুমায়ূনের স্ত্রী হামিদা সন্তানসম্ভবা। এরকম অবস্থায় সম্রাট হুমায়ূন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শের শাহ সিংহাসন দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হামিদাকে নিয়েই বনে-জঙ্গলে, নদীর তীরে ঘুরে বেড়ান সম্রাট।  একদিন জোছনা দেখতে দেখতে হামিদা সম্রাটের নিকট একটি শের শুনতে চান।  শেরটি হলো –    
                     
এই হামিদার গর্ভেই জন্ম নেন আকবর, আকবর দ্য গ্রেট।

পরবর্তীতে বিশ্বস্ত সেনাপতি বৈরাম খাঁ এবং তামাম্পের সহযোগিতায় আবার সম্রাট সিংহাসনে বসতে পারেন।  শের শাহ নিজেরই বারুদের বিস্ফোরণে মারা যান।

হুমায়ূনের বিশ্বাসঘাতক ভ্রাতা কামরান মির্জাকে বন্দী করা হয়। এবারও হুমায়ূন তাকে প্রাণ ফিরিয়ে দেন । এটিও ছিল তার চরিত্রের আরেকটি মহানুভবতার নিদর্শন।  পরে তার চোখ তুলে ফেলে তাকে মক্কায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার রচিত একটি শের হলো – 

” রাজ্য হলো এমন এক রূপসী তরুণী-
    যার ঠোঁটে চুমু খেতে হলে
    সুতীক্ষ্ণ তরবারির প্রয়োজন হয়”

সম্রাট হুমায়ূন আকবর ছোট থাকায় বৈরাম খাঁকে সিংহাসনের দায়িত্ব দিয়ে বিশ্রামে চলে যান। আকবর বড় হলে তার মাতা চিন্তা করেন যে তাকে ক্ষমতা দিবে কিনা সংশয় প্রকাশ করেন।  আকবর ক্ষমতা পেলেও বৈরাম খাঁকে মক্কায় চলে যেতে বলেন বিশ্রামের জন্য এখানেও থাকতে দেন নি। মক্কায় যাত্রার পথিমধ্যে তার সৈন্য দ্বারা তাকে হত্যা করা হয়। অথচ এই সেনাপতির জন্য সম্রাট হুমায়ূন পুনরায় সিংহাসনে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন।

পৃথিবীর ইতিহাসে বৈরাম খাঁর করুণ পরিনতি গ্রেট আকবরের কাছ থেকে আসা করা যায়না, তবে প্রদীপের নিচেই থাকে অন্ধকার।

জান্নাতুল ফেরদাউস
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


আরও পড়ুন

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *