হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি-Hat Bareye Dau - Studenttimesbd

হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি-Hat Bareye Dau

হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি-Hat Bareye Dau

“হাত বাড়িয়ে দাও” ওরিয়ানা ফাল্লাচির অসাধারণ রচনাগুলোর মধ্যে একটি। উপন্যাসটি অনুবাদ করেন অনু মুহাম্মদ।  যার ইংরেজি  নাম “Letter to A child never born

“হাত বাড়িয়ে দাও”   একজন মা ও তার ভ্রুণের উপাখ্যান বর্ণিত এক উপন্যাস। বিশেষত এক মেয়ের গল্প যার পেটে রয়েছে তার ভালবাসার অবৈধ বীজ। মাতৃত্বের এই বার্তাটি তাকে সুখী করার চাইতে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে বেশি,কারণ অনাগত এই শিশুটিকে স্বাগত জানানোর কেও নেই। বিশ্বাসঘাতকে ঠাসা এই পৃথিবীতে তাকে আনা উচিত হবে কিনা,মূলত এই শঙ্কা নিয়েই “হাত বাড়িয়ে দাও” উপন্যাসটির সূচনা।

গত রাতেই প্রথম টের পেলাম তুমি আছ,জীবন বিন্দুর মত।আমার ভয় হয় তোমার জন্য। তুমি যদি আমাকে কোন দিন প্রশ্ন কর, “কেন তোমাকে এই পৃথিবীতে আনলাম?”
একজন মা কি কখনো তার সন্তানকে ঠেলে দিতে পারে এই রাহুগ্রস্ত পৃথিবীতে? সাথে সাথে ভাবছেন নিজের অপরাধের কথা। দোটানায় পরে গেছে তার মন।

প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হচ্ছে ভ্রুণটি। অনাগত সন্তানের সাথে তার মা জীবনের বাস্তবতার কথা বলেন।
এক কথায় নিজেই ভ্রুণটিকে নিয়ে কল্পনায় জিজ্ঞেস করছেন,” তুমি কী হবে-ছেলে নাকি মেয়ে?”

হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি-Hat Bareye Dau
হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি-Hat Bareye Dau

ছেলে হলে তার জন্য পৃথিবীটা কেমন এবং মেয়ে হলে তার জন্য জগত কেমন হবে তার ব্যাখ্যা দিতে থাকেন নিজে নিজে। তবে ছেলে মেয়ে যাই হোক তার দুঃখ থাকবে না।

মেয়ে হলে অনেক শোষণ, বঞ্চনা আর নির্মমতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মেয়েদের জীবন অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ, এখানে থাকবে টিকে থাকার লড়াই,  প্রতিনিয়ত সংগ্রাম, যেখানে  সাহসের প্রয়োজন আছে সবসময়।

উনি আবার বলেন, “যদি তুমি ছেলে হও তবুও আমার  কোন দুঃখ থাকবে না।  তোমার কোন ঝামেলা হবে না।
রাস্তায় তোমার ধর্ষিতা হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে না।
কারও সাথে শুলে তোমাকে বাজে কথা শুনতে হবে না”।
এখানে একজন নারী পুরুষের বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে।

কিন্তু ছেলে হলে যে তার উপর এক বিরাট  দায়িত্বের বোঝা অর্পিত হবে তার কথাও উল্ল্যেখ করেছেন।
পুরুষ শব্দের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ” একজন পুরুষ মানে সম্মুখভাগে লেজবিশিষ্ট একটি মানুষ নয়, একজন পুরুষ মানে একজন ব্যক্তি।”  ব্যক্তি শব্দটি এই কারণেই বলেন কারণ এখানে কোন ভেদাভেদ নেই।

ডাক্তারের কাছে যখন যান তখন তার নামের পাশে মিসেস না লিখে যখন মিস লিখতে বললেন তখন ডাক্তারের হাসিমাখা মুখখানা ম্লান হয়ে যায়।  তারপর তিনি তিনটি গল্প বলেন যে গল্পগুলোর মাধ্যমে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনের চিত্র তুলে ধরেন।

সেই ভ্রুনটি কি আদৌও দেখেছিল ভোরের আলো?
হয়তোবা দেখেনি, মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আর টিকে থাকতে পারেনি। সন্তানের এই মৃত্যুতে হয়তো মায়ের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। যাকে নিয়ে এত সংগ্রাম  করেছে  সেই তো পৃথিবীর আলো দেখেনি।
হয়তো ভ্রুণটি বাচাঁর আকুতি করেছিল কিন্তু বাচাঁর জন্য যে একটি বিশ্বস্ত হাতের প্রয়োজন হয় তার তা ছিল না।

জান্নাতুল ফেরদাউস
শিক্ষার্থী,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি বইটির পিডিএফ পেতে ক্লিক করুন

হাত বাড়িয়ে দাও:ওরিয়ানা ফাল্লাচি পিডিএফ

“মূলধারা ৭১ – মঈদুল হাসান” বুক রিভিউ

তাকদীর ওয়েব সিরিজ (২০২০)

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে বিস্তারিত

 

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *